নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজ্যের আরও এক মন্ত্রীর হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অভিযোগ সামনে এসেছে। আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁর পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গেছে, কারও কাছে ৪৫ হাজার, কারও কাছে ৬০ হাজার, আবার কারও কাছে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে।
কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
বিজেপি নেতা অনুপম ঘোষ জানান, হঠাৎই মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর নম্বর থেকে তাঁর কাছে টাকা চেয়ে একটি হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীকে ফোন করেন। জবাবে ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট জানান, তিনি এ ধরনের কোনো বার্তা পাঠাননি এবং তাঁর হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শুধু অনুপম ঘোষই নন, আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও একই ধরনের বার্তা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অনেকেই সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
পুলিশের তদন্ত শুরু
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা কোন নম্বর থেকে বার্তাগুলি পাঠানো হয়েছে, কারা সেই বার্তা পেয়েছেন এবং কীভাবে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, হ্যাকারদের কবল থেকে মন্ত্রীর হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে।
এর আগেও ঘটেছে একই ঘটনা
প্রায় এক মাস আগেও রাজ্যে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। তখন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁর পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনি আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
কে এই ক্ষুদিরাম টুডু?
বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাগডুবির বাসিন্দা ক্ষুদিরাম টুডু। স্নাতক হওয়ার পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে তাঁকে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।